সরকার মঙ্গলবার রোববারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আগের অবস্থায় বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে, আগের মতোই আগামী ছয় মাস (১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর) সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত থাকবে। এর আগে বৃহস্পতিবার সরকার এই হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, যা সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর জন্য এই সঞ্চয়পত্রের আসল আয়ের উপর নির্ভরশীলতা বেশি, তাই এই পরিবর্তন নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়।
জানা যায়, রোববার সরকারি উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক শেষে ওই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে আবারও পূর্বের মুনাফার হার চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন নিয়ে নতুন করে এর নির্দেশনা জারি করা হয়।
বর্তমানে সরকারে চারটি ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে, এর মধ্যে বিশেষ করে পরিবার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে maximum ৭৫০,০০০ টাকার বেশি বিনিয়োগের জন্য আলাদা নীতিমালা আছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর মেয়াদে মুনাফার হার ছিল ১১.৯৩%, যা নতুন প্রজ্ঞাপনে পূর্বের হারই বহাল রাখা হয়েছে। যেখানে, বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে (৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি) হার ছিল ১১.৮০%, যা ঠিকই অপরিবর্তিত থাকছে।
অতীতে, দেশে মূল্যস্ফীতির কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কিছুটা কমানো হয়েছিল। যেমন, ৫ বছরের সরাসরি মুনাফার হার ১১.৯৩% থেকে কমে ১০.৪৪% করা হয়, আর ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার ১১.৮০% থেকে ১০.৪১% এ নামানো হয়। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের হারে আগের মতোই এমনি থাকবে।
গত বছর জানুয়ারি থেকে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারিত হচ্ছে, যা গত কিছু মাসে কমেছে। এর ফলে, গত বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের প্রথমার্ধের জন্য এই হার কার্যকর থাকবে।
সাধারণ গ্রাহকরা মূলত মধ্যবিত্ত পরিবার। অর্থাৎ, জীবনযুদ্ধে নিজেদের সঞ্চয় রক্ষা করতে সঞ্চয়পত্রই তাদের প্রধান সামগ্রী। অর্থনীতির সব সংকটে তারা এই সঞ্চয় ভেঙে খরচ চালান। অনেকে পাইয়ে থাকেন মূল টাকার ওপর ভিত্তি করে বছরে একবার পয়েন্ট অনুযায়ী মুনাফা পান। কিন্তু বর্তমানে মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ চাপে পড়ে গেছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনও ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তে বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদ বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই হার না কমানোই উত্তম। এ ছাড়া সাধারণ মধ্যবিত্তরা মনে করেন, সরকারের অতি দ্রুত এই পরিবর্তন বাবদ তাঁদের জীবনযাত্রা ঝুঁকি মধ্যে পড়তে পারে।
Leave a Reply